খবরের সঙ্গে, আপনার সঙ্গেamraikhobor.com • বাংলা
ENTERTAINMENT. SPORTS. STORIES.বাংলার খবর। বাংলার ভাষায়।
SaturdayNovember 7, 2026
নজরে এখন ✦ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার একাধিক বাড়ির দলিল! বাজেয়াপ্ত ১৩টি নথি, ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী · কলকাতা পুলিশের ৩০৩ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, গঙ্গাসাগরের আগেই আরও ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের আশ্বাস · দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢাকল দিল্লি! AQI ছাড়াল ৫২৫, চোখ খোলা দায়, দূষণ রুখতে জারি GRAP-III
আন্তর্জাতিক

আমেরিকার সেনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য, মিশিগানে ট্রাম্পের প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী আব্দুল এল-সইদ

Arunima karmakar ·

আমেরিকার আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটে এই প্রথম নির্বাচিত হলেন এক মুসলিম সদস্য। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান আসনে জয়ী হয়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সইদ। হারিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে। নীল গড় হিসাবে পরিচিত মিশিগান নিজেদের দখলে রাখতে সফল ডেমোক্র্যাটরা। তবে আব্দুলের এই জয় শুধু রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানো নয়, দলের অন্দরেও রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয়ের নজির।

ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আয়োজিত প্রাইমারি নির্বাচনে আব্দুলের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন হ্যালে স্টিভেনস। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। তা সত্ত্বেও মিশিগানের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া করতে পারেনি রিপাবলিকানরা। এর আগে এই আসনের সেনেটর ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা গ্যারি পিটার্স। তিনি অবসর নেওয়ায় আসনটি ফাঁকা হয়েছিল।

৪২ বছর বয়সি আব্দুল এর আগে জনস্বাস্থ্য আধিকারিক হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁর বাবা মিশর থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন। আব্দুলের বেড়ে ওঠা মিশিগানেই। নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের আগে মূলত জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন তিনি। অন্য দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন। ট্রাম্পের সমর্থনকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন তিনি।

প্রচারে আব্দুলকে চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী। এমনকি, আব্দুল আমেরিকাকে ঘৃণা করেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। পাল্টা আব্দুলের প্রচারের মূল হাতিয়ার ছিল কর্মজীবী পরিবারগুলির দৈনন্দিন খরচ কমানো এবং রাজনীতিতে কর্পোরেট প্রভাব হ্রাস করা। পাশাপাশি, গাজ়ার পরিস্থিতি এবং ইজ়রায়েলকে আমেরিকার সামরিক সাহায্য নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি।

আব্দুলের এই অবস্থান নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, ইজ়রায়েল নিয়ে তাঁর বক্তব্যের জেরে ইহুদি ভোটারদের সমর্থন হারাতে পারেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। আব্দুল পেয়েছেন ২২ লক্ষ ভোট। অন্য দিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ২০ লক্ষ ভোট।

জয়ের পর সমাজমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আব্দুল লেখেন, “আমি মিশিগান প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করব। এটা আমার কাছে সম্মানের। মিশিগান, আমরা একসঙ্গে জিতেছি। এখন আসল কাজ শুরু হবে।”

উল্লেখ্য, মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে এর আগে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেও সেনেটে এত দিন কোনও মুসলিম সদস্য ছিলেন না। আব্দুলের জয় সেই নিরিখে ঐতিহাসিক। অন্য দিকে, সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসনে জয়ী হয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন। রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে বা তাঁরা এগিয়ে রয়েছেন ৪৪টি আসনে। ফলে উচ্চকক্ষেও ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *