কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ঘিরে আইনি জটিলতা কাটার অপেক্ষা আরও বাড়ল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। তার আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুরভোট সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না। ফলে পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হল।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কসবার বাসিন্দা সিপিএমের দীপু দাস। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য। মামলাকারীর অভিযোগ, ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে রাজ্য ও মামলাকারীকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে তার মধ্যে পুরভোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মামলাকারী।
বুধবার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, পুরসভা ভেঙে যাওয়ার পর পুর কমিশনারের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করার ক্ষমতাই নেই। পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, পুনর্বিন্যাসের আগে ওয়ার্ডগুলির খসড়া প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শুনানি শেষ করে শুক্রবার রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। তত দিন পর্যন্ত পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এখন শুক্রবারের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসন।

