ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি রক্ষাকবচ নিয়ে নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার। শনিবার শীর্ষ আদালতে এই মর্মে মামলা দায়ের করেছে নবান্ন। দীপাবলির ছুটির পর সুপ্রিম কোর্ট খুললে মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, একাধিক মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় ২৩ দিন আগেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল রাজ্য। ফলে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অভিষেকের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্য সরকার জোরালো বিরোধিতা করেছিল। রাজ্যের যুক্তি ছিল, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক পৃথক ধারায় অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেননি। সে ক্ষেত্রে তাঁকে কেন রক্ষাকবচ দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্য।
তবে রাজ্যের সেই যুক্তি মানতে চায়নি হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলিতে তাঁর সরাসরি যোগ থাকার কোনও উল্লেখ নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা প্রকাশ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয় আদালত।
এ বার হাই কোর্টের সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য। অভিষেকের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার এবং হাই কোর্টের নির্দেশ খারিজ করার আর্জি জানানো হয়েছে নবান্নের তরফে।
অন্যদিকে, রক্ষাকবচ দেওয়ার পাশাপাশি অভিষেকের জন্য কয়েকটি শর্তও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল হাই কোর্ট। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ সফরেও যেতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি, আগামী ২৩ নভেম্বর তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এবার শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

