এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। তাঁর নিখুঁত লাইন-লেন্থ, সিম পজিশন এবং সুইংয়ের দাপটে বারবার নাস্তানাবুদ হয়েছে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। অবশেষে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মহম্মদ শামি। শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন ভারতীয় দলের এই তারকা পেসার। ৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ২২৯টি উইকেট নিয়েই লাল বলের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানলেন তিনি।
২০১৩ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। অভিষেক ম্যাচেই নজর কেড়েছিলেন তিনি। প্রথম টেস্টেই তুলে নিয়েছিলেন মোট ৯টি উইকেট। এরপর ধীরে ধীরে ভারতীয় দলের পেস আক্রমণের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে ওঠেন বাংলার এই ডানহাতি বোলার। দীর্ঘ কেরিয়ারে ছ’বার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। ২০১৮ সালে পারথে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫৬ রানে ৬ উইকেট নেওয়া টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট হাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে ভরসা জুগিয়েছেন শামি। ২০২১ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস তার অন্যতম নজির। শামির সেই লড়াকু ইনিংস ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মাইলফলক পেরনো পঞ্চম ভারতীয় পেসারও তিনি।
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ছিল ভারতের জার্সিতে শামির শেষ টেস্ট ম্যাচ। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় টেস্ট দলে আর প্রত্যাবর্তন করা হয়নি তাঁর। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ফের টেস্ট দলে নেওয়ার দাবি উঠলেও সেই সুযোগ আর আসেনি। শেষ পর্যন্ত নিজেই সাদা জার্সিকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই তারকা ক্রিকেটার।
অবসর ঘোষণার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন শামি। তিনি লেখেন, “সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলিকে কখনওই নয়। প্রথমবার যখন ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন একটাই স্বপ্ন ছিল—নিজের দেশের জন্য কিছু করে দেখানোর।”
বিসিসিআই এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। শামির কথায়, “বিসিসিআই এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। তাঁরা আমার প্রতিভার উপর বিশ্বাস রেখেছেন, এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং আমার ক্রিকেটজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
তবে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও একদিনের এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন শামি বলে সূত্রের খবর। ফিটনেস ধরে রাখতে ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, লাল বলের ক্রিকেটে ইতি পড়লেও সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও তাঁকে দেখা যেতে পারে।

