গুয়াহাটির হোটেলে পাঁচ খুনের ঘটনায় বড়সড় মোড়। পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সি ঘনকান্ত গগৈয়ের। মঙ্গলবার শিবসাগরের গৌরীসাগর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শিবসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মূল অভিযুক্তের এভাবে মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গুয়াহাটির হোটেল হত্যাকাণ্ডের মামলায় আদালতে পেশের পর ঘনকান্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের একটি ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে শিবসাগর পুলিশ। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পথেই ঘটে এনকাউন্টার। শিবসাগরের এসএসপির দাবি, গৌরীসাগর এলাকায় পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে শৌচকর্ম করার সময় তদন্তকারী আধিকারিকের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঘনকান্ত। তাঁকে আটকাতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তাতে গুরুতর আহত হন এক পুলিশ আধিকারিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে এক পুলিশকর্মী গুলি চালান। আহত পুলিশ আধিকারিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ গুলিচালনার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাড়ির মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ-সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এবং নারায়ণ দাস। ঘটনায় গুরুতর জখম হন পরিবারের গাড়িচালক সত্যেন্দ্র পাঠক। প্রাথমিক তদন্তে বাড়ি লিজ নেওয়া এবং ভাড়া সংক্রান্ত বিবাদকেই এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। সেই ঘটনার মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুতে তদন্তে নতুন মোড় এল।

