কোচবিহারের মাথাভাঙায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার রাতে মাথাভাঙা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন প্রকাশ সরকার (৩৮) নামে ওই ব্যবসায়ী। তাঁর কাছে থাকা বেশ কিছু সোনা-রূপার গয়না ছিনতাই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। বর্তমানে কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়ারহাট বাজারে সোনার দোকান রয়েছে প্রকাশের। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও দোকান বন্ধ করে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় বাইকে করে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। এরপর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কোনও ভারী বস্তু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাতও করা হয়। এর পরেই প্রকাশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিটি তাঁর পেটে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, এর পরেই তাঁর কাছে থাকা সোনা-রূপার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
প্রকাশের বাবা সুভাষ সরকার জানান, প্রতিদিন রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় সোনা-রূপার গয়না সঙ্গে নিয়ে আসতেন তাঁর ছেলে। আবার সকালে দোকান খোলার সময় সেই গয়নাগুলি নিয়ে যেতেন। মঙ্গলবার রাতে হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন প্রকাশ। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাঁকে মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানবেন্দ্র দাস-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিছক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই হামলা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে পুরনো কোনও শত্রুতা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার মনীশ জোশি।

