চলতি নভেম্বর মাসে পরপর তিনবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে নিজেই একাধিক সফরের সূচি ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ১৮ নভেম্বর বীরসা মুণ্ডার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলিপুরদুয়ারে যাবেন তিনি। মাসের শেষ সপ্তাহে, আগামী ২৪ নভেম্বর কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলার উদ্বোধন করতেও উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। পরপর এই তিনটি সফরকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় মেলা হিসেবে পরিচিত কোচবিহারের রাসমেলা। এই মেলাকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, মেলাকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি রাজবংশী সম্প্রদায়ের কৃষি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে। নিজেও মেলার উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই তিনটি সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে খবর।
এদিন উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিক। বৈঠক থেকেই চা শ্রমিকদের জন্য একাধিক আর্থিক সহায়তা ও সরকারি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি। বন্ধ, অচল ও পরিত্যক্ত চা বাগানের মোট ১৯ হাজার ৫২৪ জন শ্রমিককে এককালীন ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই খাতে রাজ্য সরকারের বরাদ্দ ৯ কোটি ৭৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
পাশাপাশি, চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভিবি-জি রামজি প্রকল্পের উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বয়স্ক ভাতার পরিমাণও মাসে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও বাংলায় চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা। আগে অসমে চালু থাকা এই প্রকল্পের আওতায় বাংলার চা শ্রমিকরাও ৫০ কেজি করে চাল পাবেন। উত্তরবঙ্গ সফরে চা শ্রমিকদের জন্য একাধিক ঘোষণা এবং আগামী তিনটি সফরের সূচি—দুই বিষয়েই এদিন বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।

