উৎসবের মরশুমে বাড়ি ফেরার তাড়া, আর তার জেরেই আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া! দীপাবলির আগে দেশের বিভিন্ন রুটে বিমানের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় নাজেহাল যাত্রীরা। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মরশুমে বিমানভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আবেদনকারী। কিন্তু মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানাতেই কার্যত বিরূপ প্রতিক্রিয়া শোনা গেল শীর্ষ আদালতে। আবেদনকারীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বিক্রম নাথের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘বিমানে চড়বেন না’। এরপরই মামলাটি সরিয়ে রেখে পরবর্তী মামলার শুনানি শুরু করেন তিনি।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীর আইনজীবী দাবি করেন, দীপাবলির মরশুমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বিমানভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। আইনজীবীর বক্তব্য, উৎসবের মরশুমে সমাজের সব শ্রেণির মানুষেরই বিমান পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু ছুটি কিংবা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে। এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী মূল্যবৃদ্ধি বৈষম্যমূলক বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকী, তা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত সাম্যের অধিকারের পরিপন্থী বলেও আদালতে সওয়াল করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি ছিল, উৎসবের মরশুম, ছুটির দিন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলির অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত। তবে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি গ্রহণ করেনি বিচারপতি বিক্রম নাথের বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে আগেই সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত অক্টোবর মাসে কেন্দ্র আদালতকে জানায়, ভারতীয় বায়ুযান অধিনিয়ম, ২০২৪-এর আওতায় বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি তৈরির জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে সেই বিধি প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল। আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির আগে নতুন নিয়মগুলি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই শুনানির আগেই মামলাটির জরুরি শুনানির আর্জি জানান আবেদনকারী।

