পুজোর মরশুমে রাজ্যের হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল ও রেস্তরাঁয় বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্যের জিএসটি আদায়েও। শুধুমাত্র দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করেই হোটেল ও রেস্তরাঁ পরিষেবা থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা জিএসটি আদায় হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই খাতে কর আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে হোটেল ও রেস্তরাঁ পরিষেবা থেকে মাসিক জিএসটি আদায়ের অঙ্কও ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায় মাসিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ আগের অর্থবর্ষের মাসিক গড়ের তুলনায় পুজোর মরশুমে প্রতি মাসে ব্যবসার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হোটেল ও রেস্তরাঁয় উপচে পড়ে ভিড়। মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খাওয়াদাওয়া, রেস্তরাঁয় সময় কাটানো এবং ভিনরাজ্য ও বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের আনাগোনায় জমে ওঠে এই ব্যবসা। উৎসবের মরশুমে মানুষের বাড়তি খরচের প্রবণতাও হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এবারের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল জিএসটি আদায়ের বৃদ্ধি। শুধুমাত্র দুর্গাপুজোর সময়েই এই খাত থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা কর আদায় হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি। ফলে পুজোর মরশুমে ব্যবসার প্রসারের পাশাপাশি রাজ্যের রাজস্ব আদায়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। উল্লেখ্য, এই হিসাবের মধ্যে মদ বিক্রি থেকে হওয়া আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শুধুমাত্র হোটেল ও রেস্তরাঁ পরিষেবার লেনদেন এবং জিএসটি আদায়ের পরিসংখ্যানই বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

