পুলিশ আধিকারিকদের হুমকি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে লালবাজারের সাইবার সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী। অভিযোগ, পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে হুমকির পাশাপাশি এক মহিলা পুলিশকর্তাকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে এবং পুরস্কৃত হওয়ার আশায় কিছু পুলিশকর্মী তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন এবং তাঁদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। এমনকী, পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের নাম লিখে রাখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের কাছ থেকে সমস্ত হিসেব বুঝে নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মন্তব্য করেন অভিষেক। তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কালীঘাট, হরিদেবপুর, হেয়ার স্ট্রিট, কসবা, গল্ফগ্রিন-সহ প্রায় দশটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল লালবাজারের সাইবার সেল। সেখানে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী।
এ প্রসঙ্গে চন্দ্রচূড় গোস্বামীর দাবি, পুলিশ আধিকারিকদের হুমকি দেওয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার ঘটনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিকতারই পরিচয় দেয়। তাঁর কথায়, ক্ষমতায় না থাকলেও ক্ষমতার দম্ভ ও অহংকার থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেননি তৃণমূল সাংসদ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

