দীপাবলির আগেই ফের মূল্যবৃদ্ধির কোপ! মাসের প্রথম দিনেই বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। রবিবার, ১ নভেম্বর থেকেই গোটা দেশে কার্যকর হয়েছে নতুন দর। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কলকাতায়। এক ধাক্কায় ১৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। গত ১ অক্টোবরের পর ফের নভেম্বরের শুরুতেই এই মূল্যবৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়তে চলেছেন হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়িক খরচ বাড়ার জেরে আগামী দিনে খাবারের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। সেক্ষেত্রে উৎসবের মরশুমে বাইরে খেতে গিয়ে বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হতে পারে সাধারণ মানুষকেও।
নতুন দর অনুযায়ী, কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭১ টাকা। দিল্লিতে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ২ হাজার ৮২০ টাকা। মুম্বইয়ে ১০ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে, চেন্নাইয়ে ১১ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধির পর বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ২ হাজার ৯৯৪ টাকা ৫০ পয়সা।
সাধারণত হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় ১৯ কেজির এই সিলিন্ডার। ফলে গ্যাসের দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়বে ব্যবসায়িক খরচে। সেই বাড়তি খরচ সামাল দিতে খাবারের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারেন ব্যবসায়ীরা। তাতে শেষ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আঁচ পৌঁছবে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটেও।
তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামের ওঠানামার উপর ভিত্তি করেই প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি সৌদি আরব ও আলজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও ভারতের বাণিজ্যিক এলপিজির দামের উপর পড়েছে।
তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লেও আপাতত স্বস্তি রয়েছে গৃহস্থের জন্য। নভেম্বর মাসে ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে কলকাতায় আগের মতোই ৯৬৮ টাকা দিয়ে মিলবে একটি গৃহস্থের সিলিন্ডার। উল্লেখ্য, এপ্রিল ও মে মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৩৯ টাকা। জুন মাসে ২৯ টাকা বৃদ্ধির পর দাম দাঁড়ায় ৯৬৮ টাকা। পরবর্তী তিন মাস সেই দাম অপরিবর্তিত ছিল। নভেম্বরেও একই দর বহাল থাকায় আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি।

