বিজেপির নিজস্ব শ্রমিক সংগঠনের পথচলা শুরু হল পশ্চিমবঙ্গ থেকেই। দলের প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পর এ বার নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তুলল গেরুয়া শিবির। বিজেপি ট্রেড ইউনিয়ন রিলেশন সেলের অনুমোদনে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়ে নতুন সংগঠন চালু করা হল রাজ্যে। কলকাতা বিমানবন্দর এবং বিধাননগরের ওয়েবেলে সংগঠনের দফতরের সূচনা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। সামনেই পুরভোট। তার আগে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানো এবং সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধিই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠা হলেও এতদিন দলের নিজস্ব কোনও শ্রমিক সংগঠন ছিল না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (বিএমএস) থাকলেও, সেটি বিজেপির সরাসরি শ্রমিক সংগঠন নয়। অন্য দিকে, ভারতীয় জনতা মজদুর সেল বা বিএমজেসির সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হলেও, দলের নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন এতদিন তৈরি হয়নি। এ বার সেই উদ্যোগের সূচনা হল বাংলার মাটি থেকেই।
নতুন সংগঠন নিয়ে আশাবাদী বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। তাঁর বক্তব্য, নতুন ইউনিয়ন তৈরি হওয়ায় এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী দিনে বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এই ধরনের ইউনিয়ন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ নয়, বরং অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সমন্বয়ই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, শুধু অধিকার নয়, দেশ কর্তব্যেরও। প্রত্যেকে নিজের কর্তব্য পালন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে। এই ভাবনা নিয়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এ রাজ্যে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন।
তবে বিজেপির এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, বিজেপির কি আগে বিএমএস ছিল না? তা হলে কি এখন সেই সংগঠনকে অস্বীকার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির? তাঁর দাবি, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের পরিবর্তে বিজেপির অভিমুখ কর্পোরেট সংস্থাগুলির দিকে। তাই বিজেপির শ্রমিক সংগঠন তৈরির উদ্যোগকে তিনি ‘সোনার পাথরবাটি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
এ দিন বিধাননগরের ওয়েবেলে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী সঙ্ঘের ইউনিয়ন রুমের উদ্বোধনের পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিও উন্মোচন করেন শমীক ভট্টাচার্য ও সুনীল বনসল। পুরভোটের আগে নতুন শ্রমিক সংগঠনের হাত ধরে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব বাড়াতে কতটা সফল হয় বিজেপি, এখন সেটাই দেখার।

