রুদ্ধশ্বাস পেনাল্টি শুট আউটে চেলসিকে হারিয়ে কারাবাও কাপের শেষ আটে লিভারপুল। ব্রাইটনকে হারিয়ে কোয়ার্টারে ম্যানচেস্টার সিটিও।
নির্ধারিত সময়ে স্কোরলাইন ১-১। এরপর জমজমাট টাইব্রেকার। আর সেই রুদ্ধশ্বাস পেনাল্টি শুট আউটে চেলসিকে হারিয়ে লিগ কাপ বা কারাবাও কাপের (Carabao Cup) কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল লিভারপুল। অন্যদিকে, ব্রাইটনের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষমেশ বাজিমাত ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City)।
অ্যানফিল্ডে আলনসোর হতাশা
বুধবার রাতে অ্যানফিল্ডে লড়াইটা ছিল দুই ছোটবেলার বন্ধু—লিভারপুল আন্দোনি ইরাওলা ও চেলসি (Chelsea FC) কোচ জাবি আলনসোর। সেখানে বাজিমাত ইরাওলার। ম্যানেজার হিসেবে অ্যানফিল্ডে এসে এই নিয়ে টানা তিনবার হারলেন আলনসো। ২০২৪ সালে বায়ার লেভারকুসেন ও ২০২৫-তে রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে এসেও ফিরেছিলেন শূন্য হাতে।
গতরাতে ৪০ মিনিটে বক্সে গ্রাভেনবার্খের ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে চেলসিকে এগিয়ে দেন মরগান রজার্স। তিন মিনিট পরেই ফোফানার হ্যান্ডবল, পেনাল্টি! স্পটকিক থেকে লিভারপুলের (Liverpool FC) সমতা ফেরান কোডি গাকপো। এরপর ৯০ মিনিটে কেউই জয়সূচক গোল ছিনিয়ে নিতে পারেনি। খেলা গড়ায় শুট আউটে। যেখানে চেলসির বার্কো পোস্টে মারেন। লিভারপুলের সিমিকাস বল ওড়ান গ্যালারিতে। চেলসি কিপার পেন্ডার্স গ্রাভেনবার্খের শট আটকালেও, এমেঘার শট রুখে লিভারপুলকে ম্যাচে ধরে রাখেন মামারদাশভিলি। শেষে গোমেজ গোল করার পর চেলসির ফোফানা শট ফস্কাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে অ্যানফিল্ড। শেষ আটে ইরাওলার সামনে এবার তাঁরই প্রাক্তন ক্লাব বোর্নমুথ।
কী বললেন দুই কোচ?
জয়ের পর উচ্ছ্বসিত লিভারপুল ম্যানেজার বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। ঘরের মাঠে টানা তিন জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিগে ঘরের মাঠে ভুগেছি, রবিবার সামনে আর্সেনাল।’ অন্যদিকে, আলনসোর কথায়, ‘পেনাল্টিতে হারলে সবসময়ই নিষ্ঠুর মনে হয়। আমরা ভাল ফুটবল খেলেছি, এ ধরনের স্টেডিয়ামে এসে সেটাই দরকার। প্রিমিয়ার লিগই এখন মূল লক্ষ্য।’
ম্যানচেস্টার সিটির স্বস্তি
রাতের অন্য ম্যাচে এতিহাদ স্টেডিয়ামে ব্রাইটনের বিরুদ্ধে খাদের কিনারা থেকে ফিরল এনজো মারেসকার ম্যানচেস্টার সিটি। আর্লিং হালান্ড, রুবেন দিয়াসদের মতো তারকাদের বিশ্রাম দিয়ে প্রথম একাদশে ৯টি বদল আনেন সিটির ইতালীয় কোচ। ম্যালিক ইয়ালকুয়ে ও রুটারের গোলে দু’বার এগিয়ে যায় ব্রাইটন (Brighton)। তবে মাতেও কোভাচিচ ও ভিটোর রেইসের গোলে দু’বারই দুরন্ত কামব্যাক করে (২-২) সমতা ফেরায় সিটি। শুট আউটে জেসন স্টিল কোভাচিচের শট বাঁচালেও, সিটির গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি জোড়া সেভ করে দলকে শেষ আটে তোলেন। সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে সিটির প্রতিপক্ষ তৃতীয় ডিভিশনের ব্র্যাডফোর্ড।
অন্য ম্যাচে, অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ হারিয়েছে বোর্নমুথ। ফুলহ্যামকে ১-০ হারিয়ে স্বস্তিতে ক্রিস্টাল প্যালেস। ব্রেন্টফোর্ডকে ৩-২ স্কোরলাইনে পরাস্ত করেছে সান্ডারল্যান্ড।

