রাজ্য পুলিশের পর এ বার কলকাতা পুলিশের নবনিযুক্ত আধিকারিকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার লালবাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোট ৩০৩ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। সার্জেন্ট ও সাব-ইনস্পেক্টর পদে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালে কলকাতা পুলিশে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হয় মূল পরীক্ষা। তাতে মোট ৩০৯ জন উত্তীর্ণ হলেও তাঁদের মধ্যে ৩০৩ জনের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ছ’জনের নথি যাচাই এখনও শেষ হয়নি।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এ দিন আগের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে নিয়ম না মেনে নিয়োগের ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। সরকার পরিবর্তন না হলে এই নিয়োগ সম্ভব হত না বলেও দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে পুলিশের প্রায় ৪৬ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। আইনি জটিলতায় আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরেই রাজ্য পুলিশের এসআই নিয়োগের পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলার আগেই কলকাতা পুলিশে আরও ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এ দিন পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের বিরুদ্ধে মৌখিক আক্রমণ নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়। কিন্তু পুলিশের গায়ে হাত তুললে অভিযুক্তদের জেলে থাকতে হবে। প্রয়োজনে হেফাজতে থাকাকালীনই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্ক সার্কাস ও আসানসোলের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সুদ-সহ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশকর্মীদের আইন মেনে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। মহিলাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবনিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও সময় বা পরিস্থিতি দেখে দায়িত্ব পালন করা যাবে না। মাদক পাচার থেকে শুরু করে মহিলাদের নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইন মেনে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার তাঁদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ পরিকাঠামোর উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ১১ হাজার কনস্টেবলকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার মহিলা। এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত, পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান নীরজকুমার সিংহ এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।

