খবরের সঙ্গে, আপনার সঙ্গেamraikhobor.com • বাংলা
ENTERTAINMENT. SPORTS. STORIES.বাংলার খবর। বাংলার ভাষায়।
FridayNovember 6, 2026
নজরে এখন ✦কালীপুজোয় বাড়তি মেট্রো পরিষেবা! ব্লু ও গ্রিন লাইনে চলবে অতিরিক্ত ট্রেন, রাত ১১টা পর্যন্ত মিলবে মেট্রো · নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা! সীমা খন্নার উপর ফিরল ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের নজরদারি, নতুন নির্দেশিকা জ্ঞানেশ কুমারের · ৩৭টি অভিযোগের পর নতুন এফআইআর আটকাতে হাই কোর্টে আবেদন, তবুও রক্ষাকবচ পেলেন না ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল! খারিজ আর্জি
দেশ

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা! সীমা খন্নার উপর ফিরল ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের নজরদারি, নতুন নির্দেশিকা জ্ঞানেশ কুমারের

Arunima karmakar ·

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কাজের বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনে নয়া মোড়। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার কাজকর্মের উপর ফের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার স্তরের নজরদারি চালু করল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, এ বার থেকে সীমা খন্নাকে সমস্ত ফাইল সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার পবনকুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি, কমিশনের আইটি এবং আইসিটি বিভাগের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন সীমা খন্নার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ‘অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ ওঠার প্রায় তিন মাস পর এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী। কিন্তু তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল ওই প্রতিবেদনে।

এসআইআর প্রক্রিয়াতেও এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। অভিযোগ ওঠে, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) ক্ষমতা কার্যত খর্ব করে দিল্লি থেকে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এই ব্যবস্থার নেপথ্যে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ সামনে আসে। যদিও পরবর্তী সময়ে কমিশনের তরফে জানানো হয়, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা নতুন ভোটারের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও-রাই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকার মাধ্যমে তৎকালীন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের হাত থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সীমা খন্নাকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে তাঁর কাজকর্মের উপর ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার স্তরের নজরদারি কার্যত উঠে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৎকালীন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমানাথনকে চিঠি দিয়েছিলেন সুখবিন্দর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী।

এ বার নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সেই পুরনো ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনল কমিশন। সীমা খন্নার সমস্ত ফাইল পবনকুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ এবং আইটি-আইসিটি বিভাগের দায়িত্ব তাঁর হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এসআইআর ঘিরে বিতর্কের আবহে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *