জামিয়া মিলিয়ার ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘বিপজ্জনক আরবান নকশাল’ বলে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। অভিনেতার ভিডিও নিয়ে শুরু চর্চা।
ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তার পরেই তাঁকে ‘বিপজ্জনক আরবান নকশাল’ এবং ‘ধ্বংসাত্মক বুদ্ধিজীবী’ বলে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। অভিনেতার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এত দিন ভুল ধারণা ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। শাহের সাম্প্রতিক একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় এই চাপানউতর।
‘বিপজ্জনক আরবান নকশাল’ কটাক্ষ রিজিজুর
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে রিজিজু লিখেছেন, নাসিরুদ্দিন শাহকে তিনি সাধারণ অভিনেতা হিসেবেই শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। অনেক দেরিতে অভিনেতার আসল চরিত্র বুঝতে পেরেছেন বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শাহের আচরণ ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন শাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরব পড়ুয়ারা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন ৭৬ বছরের অভিনেতা।
‘আমি গর্বিত, আমি দিমাগি নকশাল’
ভিডিওতে শাহের বুকে দেখা গিয়েছে ‘দিমাগি নকশাল’ লেখা একটি ব্যাজ। নিজেকে ওই পরিচয়ে চিহ্নিত করতেও আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমি দিমাগি নকশাল।” তাঁকে বা তাঁর মতো মানুষদের আরও কী কী নামে ডাকা হয়, তা নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিনেতা। ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো তকমার প্রসঙ্গ ওঠে সেখানে।
প্রতিবাদের ভাষায় শাহ প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের তরুণদের মনোবল ভেঙে দিতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে সরকার আর কত দূর যেতে পারে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন ও তার মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
জামিয়া থেকে জেএনইউ, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সরব
শাহের বক্তব্যে উঠে এসেছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রসঙ্গ। পড়ুয়াদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তাঁর দাবি, এই ঘটনাগুলি মনে রাখা হবে। বক্তব্যের শেষে স্বাধীনতা সংগ্রামী বিসমিল আজিমাবাদির ‘সরফরোশি কি তমন্না’ কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন। তারপরই শুরু হয় চর্চা। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়িয়ে ভিডিও পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পর্যন্ত।
এর আগেও ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। গত সপ্তাহে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থন করেছিলেন তিনি। সমালোচনা করেছেন নিট প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনার। আর এই সবকিছু নিয়েই ক্ষুদ্ধ কিরেন রিজিজু।
এদিকে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ২০০৬ সালের পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ক্যাম্পাসে হিংসার ঘটনার জেরে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। অবশেষে চলতি সপ্তাহে ছাত্র আন্দোলনের জেরে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মেলে। কিন্তু এবার নির্বাচনী সূচি এবং ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়ারা।

